ছানোয়ার হোসেন শামিম ,৮ অক্টোবর ২০২৬ (বিবিনিউজ): মহালয়ার সুর ও প্রতিমা শিল্পীদের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় ঢাকার উপকন্ঠে সাভার, আশুলিয়া,কেরানীগঞ্জ ও ধামরাইয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ প্রস্তুতি। মন্দিরে মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে এবং এদের অধিকাংশ মন্দিরের রংতুলি ও শাড়ী পড়ানোর কাজ শেষ করতে শুরু করেছেন। মন্দির গুলোর বাহিরের অন্যান্য কাজও চলছে প্রস্তুতি।
কৈলাশ ছেড়ে মর্ত্যে আসছেন মা দুর্গা। মন্ডপে মন্ডপে বইছে আনন্দ আর উৎসবের আমেজ। পিতৃপক্ষের অবসান আর দেবীপক্ষের সূচনায় মহালয়ার পবিত্র তিথিতে চীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয় শক্তিরূপিণী দেবী দুর্গাকে। দুর্গতিনাশিনীর আগমন উপলক্ষে ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ,কেরানীগঞ্জ ও ধামরাইয়ের প্রতিটি মন্দির ও মন্ডপে চলছে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলবে বলে জানান, প্রতিমা শিল্পী বাদল চক্রবতী ।
সাভার, আশুলিয়া,কেরানীগঞ্জে ও ধামরাইয়ের ৫ শতাধিক মন্ডপে এবার উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রতিমা শিল্পীরা নিখুঁত হাতে রূপ দিচ্ছেন দশভুজা দেবীকে। ভক্তদের মনে এখন একটাই আনন্দ মা আসছেন। শাস্ত্র মতে, দেবী দুর্গা এবার ঘটকে(ঘোড়া) চড়ে মর্ত্যে আসবেন এবং নৌকাতে গমন করবেন, যা শস্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক বলে জানান, সাভার.রামকৃষ্চ পঞ্চবটি আশ্রমের প্রধান পুরোহিত উত্তম চক্রবতী ।
“সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য আমরা প্রস্তুত। মায়ের চরণে একটাই প্রার্থনা মা যেন সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেন এবং দেশ ও জাতির সকল অমঙ্গল দূর করে শান্তি ফিরিয়ে দেন।” জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপার ও স্থাণীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাভার,ধামরাই ও ঢাকায় একাদিক বার পৃথক ভাবে নিরাপত্তা,আইন-শৃংখলা রক্ষা নিয়ে একাদিকবার নিরাপত্তা ও আইনশৃংখার মিটিং করে দিকনিদের্শনা দিছেন বলে জানান, সাভার উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটি সভাপতি বরুণ ভৌমিক নয়ন।
সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং ধামারই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল মামুন জানান, উৎসবকে নির্বিঘœ ও আনন্দময় করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিটি পূজান্ডপ। গত বছরের তুলনায় এ বছর পূজা মন্ডপের সংখ্যা বেশী এবং প্রতিটি মন্ডপে সরকারী অনুদানও বেশী দেয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও হিন্দু ভক্তবৃন্দের পাশে রয়েছে।
ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের প্রশাসক জোহরা খাতুন বলেন,গতবছরের তুলনায় বর্তমান সকারের সময়ে পূজা মন্ডপের সংখ্যা বেশী। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ তমিজ উদ্দিনের নিদের্শনায় সকল পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করা হযেছে। তিনি আরো বলেন, কুল্লা ইউনিয়নসহ কোন স্থানেই বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি কিংবা দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না সরকার। এ ছাড়া মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে সক্রিয় থাকার আহ্বান করেন।
ঢাকা ১৯ আসন সাভার-আশুলিয়ার এমপি ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু এবং ঢাকা ২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ তমিজ উদ্দিন জানান, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে মন্ডপে মন্ডপে চলছে দেবী দূর্গার কাজ এবং মার্কেটে চলছে ভক্তদের কেনাকাটা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দও ভক্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘœ করতে সাভার ,ধামরাই এবং কেরানীগঞ্জের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিজ উদ্যোগে মন্দির গুলোতে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং পাহারার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। সাভারের নামা বাজারের এবং নয়ারহাটের বংশী নদীতে বিসর্জনের জন্য সংস্কারসহ স্থান নিধারণ করা হয়েছে।
আসন্ন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ প্রস্তুতি এবং আইনশৃংখলা নিয়ে সাভারে ঢাকা জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত মৎস্য ও প্রানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি নিরাপত্তাসহ সকল ধরনের সহযোগীতার আশ^াস দেন।
বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে এবারই প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও নিরাপদে উদযাপিত হবে। দুর্গাপূজায় কোনো ধরনের হুমকি নেই এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে তাঁদের পূজা উদযাপন করবেন।
সব শঙ্কা ও বাধাকে পেছনে ফেলে ঢাকঢোল ও কাঁসার আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠুক প্রতিটি মন্ডপ। মায়ের আরাধনায় দেশ থেকে দূর হোক সকল অশান্তি। এমনি প্রত্যাশা করেছেন হিন্দু ভক্তবৃন্দর ।
সাভার ও ধামরাইয়ে দূর্গা পূজার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন
